কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৪:২৪ PM
কন্টেন্ট: পাতা
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ০৪-০৮-২০২২ তারিখ নং স্মারকমূলে ২৮.০০.০০০০.০২১.৩৩.০০১.২২.৩৪৬ বিপিসি'র স্থাপিতব্য পাইপলাইনসমূহের অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ও সমন্বয়সাধনের নিমিত্ত "পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি" গঠনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।
সে মোতাবেক বিপিসি'র পরিচালকমন্ডলীর ৯৬৭ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ০৮-১১-২০২২ তারিখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন, ২০১৬ এর অনুচ্ছেদ-১২ এর এখতিয়ারবলে "পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি" নামে নতুন কোম্পানি, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক কর্তৃপক্ষের দপ্তর (আরজেএসসি) হতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়, যার নিবন্ধন নং-CH 15248/2022.
সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন:
বাংলাদেশ সরকার দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদাপূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৮২৯৮.১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর পক্ষে ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড (ইআরএল) এর মাধ্যমে "ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন" প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল সহজে, নিরাপদে, স্বল্প খরচে এবং স্বল্পতম সময়ে মাদার ভেসেল হতে খালাসকরণ নিশ্চিত করা যাবে। ক্রুড অয়েল ও ডিজেল ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ও যোগানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যাবে।
চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন (সিডিপিএল):
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩,৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৪৯.৫৭কিলোমিটার চট্টগ্রাম-ঢাকা জ্বালানি তেল পরিবহন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপদে এবং স্বল্পখরচ ও স্বল্পসময়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। বিগত ১৬-০৮-২০২৫ খ্রিঃ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন করেন।
ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (আইবিএফপিএল):
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)'র নিজস্ব অর্থায়নে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩১৩.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারী লিমিটেড এর শিলিগুড়িস্থ মার্কেটিং টার্মিনাল হতে পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত ১৩১.৫০ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১২৬.৫০ কি.মি. ও ভারত অংশে ০৫ কি.মি.। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপোতে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছর এর মধ্যে প্রথম তিন বছর দুই লাখ মেট্রিক টন, পরবর্তী তিন বছর তিন লাখ মেট্রিক টন, এরপর চার বছর পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ও অবশিষ্ট পাঁচ বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করবে ভারত। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের কার্যক্রম ভারত থেকে বাংলাদেশে হাই-স্পিড ডিজেল পরিবহন টেকসই, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করবে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রাথমিকভাবে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সংকট দূরীভূত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ১০,৯০,৬৯,৩৬১ লিটার তেল ট্রান্সমিশন করা হয়েছে।